মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

চিকিৎসক সংকটের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদের সাতজন চিকিৎসক বদলি হওয়াতে স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

213

মেহেরপুর প্রতিনিধি: ৭ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল। জনবল সংকটে অন্তহীন সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদের সাতজন চিকিৎসক বদলি হওয়াতে স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মেডিসিন কনসালটেন্ট, অর্থোপেডিক, ২ জন আবাসিক মেডিকিল অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হওয়াতে অনেক রোগী সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ চিকিৎসকদের। অধিকাংশ রোগীকে কুষ্টিয়া কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি জন প্রশাসন মন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের শূন্যপদে জনস্বার্থে ডাক্তার ও কর্ম কর্তা , কর্ম চারী পদায়নের জন্য পত্র দিয়েছেন। তারপরও চিকিৎসক পদায়ন না করায় হাসপাতাল থেকে অনেক রোগের রোগীরা চিকিৎসা নাপেয়ে ফিরে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড গুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারনে সময় অনুযায়ী রাউন্ড দেওয়া দেয়া হচ্ছেনা। কোন কোন ওয়ার্ডের রোগীদের অভিযোগ ১টার পর রাউন্ড দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এমনিতেই ১শ বেডের লোকবল দিয়ে ২৫০ বেডের হাসপাতালটি পরিচালিত হয়ে আসছে কয়েক বছর যাবত। ১শ বেডের হাসপাতালের জন্য ৪২ জন চিকিৎসকের ২৫ জন চিকিৎসক নেই। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো-সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ও এ্যানেসথেটিস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সংশ্লিষ্ট ডাক্তার না থাকায় মেজর কোনো অপারেশনও করা যাচ্ছে না। টেকনিশিয়ান না থাকায় প্যাথলজি বিভাগ বন্ধের উপক্রম। প্রসবজনিত সমস্যাসহ অপারেশন রোগীদের শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চলে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জামির মো. হাসিবুস সাত্তার জানান, মেডিসিন কনসালটেন্ট না থাকায় বড় সমস্যা জটিল রোগের চিকিৎসায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থোপেডিক না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আহতরা প্রাথমিক চিকিসার বাইরে কোনো ধরনের চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। সাতজন ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের স্থলে মাত্র একজনকে দিয়ে কোনোরকম হাসপাতালকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। রাত ৮টার পর সেকমো ও ইন্টার্নি দিয়ে হাসপাতাল চালাতে হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ