জেন্ডার বৈষম্য ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে মেহেরপুরে সংলাপ

অনলাইন নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও জেন্ডার সমতা নিয়ে আলোচনা নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ

মেহেরপুর প্রতিনিধি: অনলাইনে হয়রানি, সামাজিক বৈষম্য ও জেন্ডারভিত্তিক প্রচলিত ধারণার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত এক অ্যাডভোকেসি ডায়ালগে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে মেহেরপুর শহরের বাঙালিয়ানা ভোজ রেস্টুরেন্টে হিউম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০.৩০টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে দুপুর সাড়ে ১২.৩০টা পর্যন্ত।

সংলাপে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, হয়রানির বিরুদ্ধে করণীয় এবং নারী-পুরুষকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত গতানুগতিক ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত পছন্দ, সক্ষমতা ও অধিকারকে সম্মান করার পাশাপাশি বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় আলোচনায়।

অনুষ্ঠানে উঠে আসে, ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের সঙ্গে অনলাইন হয়রানির ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো ব্যক্তি অনলাইন বা অফলাইনে হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি গোপন করে একা মোকাবিলা করার পরিবর্তে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির সহযোগিতা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

হিউম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল আমিন ধূমকেতু, মহিলা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসিমা খাতুন, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল মাহমুদ, সহকারী অধ্যাপক এস এম রফিকুল আলম বকুল, শিক্ষক খন্দকার মুইজ উদ্দিন, সাংবাদিক মেহের আমজাদ, হেল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক দিলারা জাহান এবং উদ্যোক্তা শারমিনা পারভীন ও সাদিকুন নেসা।

এ ছাড়া ইয়ুথ অ্যাক্টিভিস্ট তানজিমুল ইসলাম, রাজিয়া খাতুন, মো. গালিব, সাব্বির হোসেন, শিহাব হাসান, মোছা. টুম্পা, ইসরাক ও শিশিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা মনে করেন, তরুণদের সম্পৃক্ত করে এ ধরনের আলোচনা অব্যাহত রাখা গেলে অনলাইন হয়রানি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, জেন্ডারবিষয়ক নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার হবে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ