পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখরিত মেহেরপুরে গাংনীর মাইলমারী পদ্মবিল

পদ্মবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবারিত জলরাশীতে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

17

মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাইলমারী গ্রামের পদ্মবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবারিত জলরাশীতে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পরিবেশ। শীতের শুরুতে আসা পরিজায়ী পাখিদের জলকেলিতে মুগ্ধ প্রকৃতি ও পাখি প্রেমীরা। তবে বিলের অধিকাংশ এলাকা কচুরীপানায় ভরে যাওয়ায় জলাশয়ের পরিধি কমে যাচ্ছে ফলে পাখিদের বিচরন করতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মাইলমারী পদ্মবিল। অনেক আগে থেকেই এই বিলে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা। কিন্তু পাখি শিকারীদের অত্যাচারে কমতে থাকে তাদের উপস্থিতি। পরবর্তিতে এলাকাবাসিদের প্রতিরোধের মুখে পাখি শিকারীদের আনাগোনা কমে গেলে গত তিন বছর পরিযায়ী পাখিদের উপস্থিথিতি বাড়তে থাকে। পরিযায়ী পাখিদের সাথে পদ্মবিলের জল ও স্থলভাগ এখন পানকৌড়ি, বক, বালিহাঁস, কাদাখোঁচা, ডাহুক, শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতী পাখিদের অভয়াশ্রম। এসব পাখির দলবদ্ধ বিচরণ মুগ্ধ করছে এলাকাবসি ও দর্শনার্থিদের।

এলাকাবাসিরা জানান, এই বিলে এক সময় প্রচুর পদ্ম ফুটতো কিন্তু এখন আর ফোটেনা। কারন বিলের অধিকাংশ এলাকা কচুরীপানায় ভরে গেছে। এর ফলে পাখিরা বেশী জলাশয় পায়না। তাদের দাবী সরকার যদি বিলটি সংস্কার করার ব্যবস্থা করে তবে আবারও পদ্ম ফুলে মুখরিত হবে বিল এবং পাখিরাও পাবে ভাল পরিবেশ।

মৃধা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার তিনি বলেন, পরিবেশবিদরা জানান, প্রাণ প্রকৃতি টিকে না থাকলে পৃথিবীর কোন কিছুই টিকে থাকা অসম্ভব। পরিযায়ী পাখিরা ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং তাদের বিষ্টা থেকে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পায়। হাজার হাজার মাইল দুর থেকে পাখিগুলো এখানে এসেছে। এদের টিকিয়ে রাখার দায়ীত্ব আমাদের। পরিযায়ী পাখি যাতে নিরাপদে বিচরণ করতে পারে তা নিশ্চিত করা সরকারী দায়ীত্ব, নাগরিকদেরও দায়ীত্ব। পাখি বা বন্য প্রাণী হত্যা করলে জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। মেহেরপুরে পরীযায়ী পাখির বিচরণ যেন আরো বেশি হয় সে বিষয়ে সকলকে সচেষ্ট হওয়া দরকার বলে জানান প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরও সংবাদ