মেহেরপুরে জেলা আ’লীগের জরুরী বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

সরকারের সাফল্য ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হসিনার উন্নয়নের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষে বিশেষ জরুরী বর্ধিত সভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ

10

মেহেরপুর প্রতিনিধি-
সরকারের সাফল্য ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হসিনার উন্নয়নের বার্তা তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষে বিশেষ জরুরী বর্ধিত সভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। বুধবার (৪ অক্টোবর) সন্ধায় স্থানীয় পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়ালী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তব্য রাখেন। মূলত গতকাল (৩ অক্টোবর) দ্বিধা বিভক্ত আওয়ামী লীগের একাংশের জেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধচারণ ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দিতে যারা নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তাদের জবাব দিতে এই বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়।
বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইবরাহীম শাহীন বলেন, জেলার উন্নয়ন দেখে ইর্ষান্বিত হয়ে বিরোধিরা মাঠে নেমেছে। সরকারের শেষ সময়ে জেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কর্মসূচী পালন, বিএনপি জামায়াতের তান্ডব প্রতিরোধে মাঠে আছে। সেই সময় দলের ক্ষতি করতে ও তাদের ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার জন্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোধাগার করছে। এটি শুধু দল নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও অনাস্থা জ্ঞাপন। আমরা স্বার্থানেষি মহলের অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ খালেক বলেন, বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ দল। দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। তাই বলে দলের প্রতি বিষোধাগর করা এটা অন্যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা না রাখতে পারা দলিয় শৃংখলা ভঙ্গের সামিল। আজকের বর্ধিত সভায় আমরা মেহেরপুরে কি কি উন্নয়ন করেছি তার জবাব জনগনের সামনে দিতে এসেছি। গতকাল বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে আওয়ামী রীগের কপিপয় নেতা যে মিথ্যাচর করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ভার্চুয়ালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি মেহেরপুর বাসির জন্য “মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স” আর্কষনীয় করার লক্ষে প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছি। মুজিনগর বিশ^বিদ্যালয় সংসদে পাশ হয়ে গেছে। দর্শনা-ভায়া মুজিবগর মেহেরপুর রেলপথ নির্মাণের সমীক্ষা শেষ হয়েছে। মুজিবনগর স্থলবন্দর ও চেকপোস্টের কাজ চলমান। হাসপাতালের এগার তলা ভবনের কাজ শেষের দিকে। নার্সিং কলেজের ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ গুলোগুলোতে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন নতুন বহুতল ভবন। উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভৈরব নদী সহ ৭টি খাল খনন, কৃষি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার, শেখ কামাল ইনকিবিউশন সেন্টার, মুজিবনগর পলিটেকনিক স্কুল এন্ড কলেজ, পাসপোর্ট অফিস, পোস্ট অফিস, মহিলা অধিদপ্তর, ছহিউদ্দিন টেক্সটাইল, যুব উন্নয়ন ভবন, টিটিসি সহ অসখ্য প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি জনগনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কারো কারো ব্যাক্তিগত অন্যায় আবদার মেটাতে না পারায় তারা আমার প্রতি বাজে বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি সকলকে দলের প্রতি অনাস্থা না করে, বিভাজন তৈরী না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বিরোধিদের কথায় কান দেওয়ার জন্য জনগনের প্রতিও আনুরোধ জানান।
জরুরী বর্ধিত সভায় অনান্যদের মধ্যে কথা বক্তব্য রাখেন, জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম, জেলা জজ কোর্টের পিপি, পল্লব ভট্টাচার্য, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বুরহান উদ্দিন চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান শাহজামান, মতিয়ার রহমান, যুব লীগের সভাপতি লতিফন নেছা লতা সহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
উল্লেখ্য ঃ গেল মঙ্গলবার স্থানীয় টাউন হলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ফরহাদ হোসেন এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বক্তৃতা বিবৃতি দেন। এদিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আ’লীগের দু’গ্রুপের বিরোধ প্রকাশ্যে রুপ নেয়। প্রতিমন্ত্রীর বিরোধিরা অভিযোগ করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে মন্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে তার অনুগতদের নির্বাচনে বিজয়ী হতে সহযোগিতা করেছেন। নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তার কোন সহযোগিতা ছিলো না। কোন কোন সময় মন্ত্রীর অনুগতদের দিয়ে আ’লীগের নেতা কর্মীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। তাই ফরহাদ হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তারা নৌকার পক্ষে কাজ করবেন না। ত্যাগি নেতাকর্মীদের কোন রকম মূল্যায়ন না করে দলটিকে পরিবারতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন এমপি। এমপির ষড়যন্ত্রে মুজিবনগরে চারজন নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। তিনি পৌরসভার কোন উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করেননা। ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে সে তার কাছের লোকদের নেতা বানিয়েছেন, বড় বড় পদে বসিয়েছেন। অথচ যারা প্রকৃত আ’লীগ করে তাদের কোন মূল্যায়ন তার কাছে নেই। হাইব্রীড আওয়ামী লীগ কর্মীরা পরিক্ষিত ত্যাগি নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছে। তাই ফরহাদ হোসেন বাদে আর যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হউকনা কেন তারা তা মেনে নেবেন।
এ দিনের মতবিনিময় সভায় মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপিকে মনোনয়ন না দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বিশ^াস, জেলা যুবলীগের আহবায়ক মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন,জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এ এস এম ইমন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর আল মামুন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য জেমস স্বপন মল্লিক বক্তব্য রাখেন। জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন জলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী।

এই বিভাগের আরও সংবাদ