বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে মানববন্ধন

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ডুবে থাকা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রতিবাদ ও তত্ত্বাবধায়কের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন করেছে সর্ব সাধারন।

218

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর সদর হাসপাতাল চত্ত্বরে মানববন্ধন করেন মেহেরপুরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেয়, যাদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের সদস্য, রোগীর স্বজন ও মানবাধিকারকর্মীগন।

এ সময় বক্তব্য দেন ক্রীড়াবিদ এ এস লিটন, মেহেরপুর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনলজির শিক্ষক খন্দকার মুইজ, মেহেরপুর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ এছাড়াও আরও বক্তব্য দেন সাহেব মাহমুদ এবং রোগীর স্বজন সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন।

মানববন্ধনে বক্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন রকমের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলেন ধরেন যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়গুলো হল- ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, বহিরাগত দালালদের ব্যাপক দৌরাত্ম্য, হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন যানবাহনের সার্বক্ষনিক জমায়েত, ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ভিড়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যহৃত হওয়া, রোগীদের খাবার এর নিম্নমান সহ অনেক বিষয়।
বক্তারা বলেন, “চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার অথচ আমাদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক চিকিৎসক, নার্স আছেন যারা নিয়মিত অনুপস্থিত থেকেও তাদের হাজিরা খাতায় সাক্ষর করা থাকে এবং তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্ব পালনের বদলে নিজের সুবিধা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। যার ফলে হাসপাতালে সাধারণ মানুষ নাজেহাল হয়ে পড়েছে।

এ সময় সবাই তত্ত্বাবধায়কের অপসারণ সহ ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগের দাবি জানান। এছাড়া দালাল চক্র নির্মূল ও রোগীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও মানবিক চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ