মেহেরপুরে পেকিন জাতের হাঁস পালন করে লাভবান হচ্ছে গ্রামীন নারীরা

(পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে স্থানীয় দারিদ্র বিমোচন সংস্থার সহযোগিতায় সদর উপজেলার ১০টি পরিবার বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেছেন পেকিন জাতের হাঁস পালন।

301

মেহেরপুরে পেকিন জাতের হাঁস পালন করে লাভবান হচ্ছে গ্রামীন নারীরা

মেহেরপুরে পারিবারিকভাবে চীনের পেকিন জাতের হাঁস পালন করে লাভের আশা গ্ৰামীণ নারীদের। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে স্থানীয় দারিদ্র বিমোচন সংস্থার সহযোগিতায় সদর উপজেলার ১০টি পরিবার বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেছেন পেকিন জাতের হাঁস পালন। এই হাঁস পালন করে তাদের অর্থনৈকি অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হবে এমন আশা করছেন তারা। খামারগুলি ঘুরে জানা গেছে, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে কৃষি ইউনিট (প্রাণিসম্পদ খাত) এর আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডিবিএস এর মাধ্যমে মেহেরপুর সদর উপজেলার এই প্রথম ১০ জন খামারিকে ৩৫০টি চীনের পেকিন জাতের হাঁস পালনে উদ্ধুদ্ধ করা হয়েছে। এই হাঁস পালনে খরচ কম এবং অল্প সময়ের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। এই হাঁস পালনে পুকুর বা নালার পানির প্রয়োজন হয়না। বর্তমানে এই হাঁসের ওজন দুইমাস বয়সে প্রতিটি তিন কেজির উপরে মাংশ উপযোগী হয়েছে। সামনে ঈদুল আযহায় বিক্রি করার আশা এসব নারীদের।
সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের হাঁস পালনকারী খামারী বেদানা বেগম জানান, সমন্বিত কৃষি ইউনিট (প্রাণিসম্পদ খাত) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডিবিএস তাকে ৩৫টি হাঁসের বাচ্চা ঘর তৈরীসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়েছে। এই হাঁস পালন করতে বেশি খরচ হচ্ছেনা। কেনা খাবারের সাথে দেশীয় খাবার মিশিয়ে হাঁসকে খাওয়ানো হয়। মুরগী পালনের মতো মাচা দিয়ে ঘর তৈরী করে পোষা যাচ্ছে। হাঁস পালনে পুকুর বা ডোবার যে পানির প্রয়োজন হয় সেটা লাগেনা। হাঁসগুলি দেখতে সুন্দর হওয়ায় অনেকে দেখতে আসছে এবং হাঁস পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
ডিবিএস এর প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, প্রথমে সল্প পরিসরে এই খামার তৈরীতে খামারীদের হাঁসের বাচ্চা, খাবার, ঘর তৈরীসহ বিভিন্ন সহযোগীতা করা হয়েছে। এই হাঁসের রোগের কারণে মৃত্যুর হার শুন্য। এই জাতের হাঁস ৫—৮ কেজি পর্যন্ত মাংশ হয়।
ডিবিএস—এর সহকারী পরিচালক জুবায়ের আলম জানান, এই জাতের হাসপালনের উদ্যেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আমিষের ঘাটতি পুরণে সহায়তা করা। পরবর্তিতে এই খামারের পরিধি আরো বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কুমার ব্যানার্জী জানান, অল্প সময় আর অল্প খরচে এই জাতের হাঁস পালনে খামারীরা লাভবান হবে। এই জাতের হাঁস পালন জেলাব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আমিষের ঘাটতি পুরণে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ