বসুন্ধরা গ্রুপের হাত ধরে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের অন্যতম সংকট ছিল আধুনিক অবকাঠামোর অভাব। আন্তর্জাতিক মানের মাঠ, উন্নত প্রশিক্ষণসুবিধা, খেলোয়াড়দের জন্য জিম ও পুনর্বাসনব্যবস্থা—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগও ছিল সীমিত।

1

বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের অন্যতম সংকট ছিল আধুনিক অবকাঠামোর অভাব। আন্তর্জাতিক মানের মাঠ, উন্নত প্রশিক্ষণসুবিধা, খেলোয়াড়দের জন্য জিম ও পুনর্বাসনব্যবস্থা—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগও ছিল সীমিত। সেই বাস্তবতায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এবিজি স্পোর্টস সিটি দেশের খেলাধুলায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। ফুটবল থেকে ক্রিকেট, স্কোয়াশ থেকে হকি—বিভিন্ন খেলার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরির মধ্য দিয়ে এই ক্রীড়া কমপ্লেক্স শুধু অবকাঠামোগত পরিবর্তনই আনছে না, বদলে দিচ্ছে ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ ও সংস্কৃতিও।

প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা এবিজি স্পোর্টস সিটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বেসরকারি উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। বসুন্ধরা গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও ক্রীড়ার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই উদ্যোগ। দক্ষিণ এশিয়ায় বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের এমন সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো বিরল। ফলে এবিজি স্পোর্টস সিটি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

১৯৮০-এর দশক থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত বসুন্ধরা গ্রুপ ২০১৯ সাল থেকে এই স্পোর্টস সিটি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য কেবল খেলার মাঠ নির্মাণ নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নেওয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হয়েছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

দেশে খেলাধুলার প্রসারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, এবিজি স্পোর্টস সিটি তার একটি বাস্তব উদাহরণ। এর মাঠ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন তরুণদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করছে। পাশাপাশি ক্রীড়াকে বিনোদন, সুস্থ জীবনযাপন ও পেশা হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগও বাড়ছে। তরুণদের মাদকাসক্তি ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এবিজি স্পোর্টস সিটির অন্যতম আকর্ষণ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের উপযোগী এই ভেন্যু ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। জাতীয় স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজনের অনুপযোগী হয়ে পড়ার সময় কিংস অ্যারেনা দেশের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে সামনে আসে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের হোম ম্যাচ, এএফসি কাপের ম্যাচ এবং দক্ষিণ এশীয় বয়সভিত্তিক নারী ফুটবল প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিদেশের মাঠের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিংস অ্যারেনার গ্রহণযোগ্যতার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিনিধিদলের পরিদর্শনে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ভারতের ফিফা প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে গত আগস্টে মাঠ ও ভেন্যুর সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনার জন্য একটি কারিগরি দল বাংলাদেশে আসে। তারা ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে। কিংস অ্যারেনার মাঠ, অনুশীলন গ্রাউন্ড, খেলোয়াড়দের জিম ও পুনরুদ্ধার-সুবিধা আন্তর্জাতিক মানের বলে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের স্বীকৃতি শুধু একটি ক্রীড়া স্থাপনার সাফল্য নয়, বাংলাদেশের ক্রীড়াব্যবস্থার জন্যও ইতিবাচক বার্তা।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই স্পোর্টস সিটির পরিকল্পনায় নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর চার ছেলে—সাদাত সোবহান তানভীর, সাফিয়াত সোবহান সানভীর, সায়েম সোবহান আনভীর ও সাফওয়ান সোবহান তাসভীর—খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের লক্ষ্য কেবল নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং দেশের খেলাধুলার চর্চাকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করা।

এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর মনে করেন, বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনা তৈরির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় খেলাগুলোর একটি হলেও বাংলাদেশে খেলাটি প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। তাঁর প্রত্যাশা, বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের একাডেমি থেকে ভবিষ্যতে ভালো মানের ফুটবলার উঠে আসবে এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে এলে দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে খেলার স্বপ্নও দেখেন তিনি।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আবদুস সাদেক। ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ মাঠ, স্টেডিয়াম ও বিভিন্ন খেলার অবকাঠামো নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বসুন্ধরা কিংসের সাফল্য, ক্রিকেটে গ্রুপটির আগ্রহ, হকির জন্য টার্ফ স্থাপন এবং বাংলাদেশে প্যাডেল টেনিসের প্রসারে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও দল গঠন ও পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এলে দেশের খেলাধুলা আরও সমৃদ্ধ হবে।

এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি, বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইমরুল হাসান বলেন, চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্রীড়াপ্রীতি সুপরিচিত। তাঁদের লক্ষ্য খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা এবং দেশের পরিচিতি বাড়ানো। তাঁর ভাষ্য, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে চেয়ারম্যানের সমর্থন সব সময়ই ইতিবাচক। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে তার সুফল দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও স্পষ্ট হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

ইমরুল হাসানের মতে, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বিভিন্ন খেলায় প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র। তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করার ব্যবস্থাও রয়েছে এই স্পোর্টস সিটিতে।

২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এর পরের বছর ৩ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ফুটবল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে।

ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর এবিজি স্পোর্টস সিটিতে অনাবাসিক ফুটবল একাডেমি চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ডরমিটরি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে আবাসিক একাডেমি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিভাবান তরুণদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এই একাডেমি থেকে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও অগ্রগতি ঘটছে। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দলের সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের খেলাও এই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে এবিজি ক্রিকেট নেটওয়ার্ক দল ক্রিকেট লিগে অংশ নেওয়া শুরু করেছে। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্র বিস্তৃত হচ্ছে।

এবিজি স্পোর্টস সিটিতে ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলাতেও আয়োজন বাড়ছে। সম্প্রতি এখানে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ ১১টি দেশের খেলোয়াড়েরা অংশ নেন। সাত দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক কমব্যাট স্পোর্টস প্রতিযোগিতা জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসর ‘জেডএফসি-২: প্রাইড অব বাংলাদেশ’ও আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে চলতি মাসে ১০টি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতার পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্রীড়াচর্চায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রতিভা বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

হকির জন্য অ্যাস্ট্রোটার্ফ স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটি চালু হলে আধুনিক পরিবেশে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়বে। ভবিষ্যতে এখানে আন্তর্জাতিক হকি ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। এভাবে একাধিক খেলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এবিজি স্পোর্টস সিটি একটি বহুমাত্রিক ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

এবিজি স্পোর্টস সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম হবে ‘শাহ আলম ক্রিকেট স্টেডিয়াম’, হকি স্টেডিয়ামের নাম ‘আবদুস সাদেক স্টেডিয়াম’ এবং আন্তর্জাতিক মানের সুইমিংপুলের নাম হবে ‘আবদুস সোবহান সুইমিংপুল’।

শাহ আলম ও আবদুস সাদেকের নামে ক্রীড়া স্থাপনার নামকরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অবদানকে স্মরণ করার সুযোগ তৈরি করবে। অন্যদিকে আবদুস সোবহান ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একজন। তিনি ভালো সাঁতারু ছিলেন এবং তৎকালীন বেঙ্গল দলের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর নামে সুইমিংপুলের নামকরণের মধ্য দিয়ে তাঁর ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট অতীতকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবকে নিয়ে ব্যতিক্রমী ক্রীড়া ও বিনোদন উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। এ ধরনের আয়োজন বাস্তবায়িত হলে ক্রীড়াপ্রেমীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বাংলাদেশে ক্রীড়ার উন্নয়ন শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে না; প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রতিযোগিতার সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা। এবিজি স্পোর্টস সিটির উদ্যোগে এসব ক্ষেত্রে একসঙ্গে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন খেলার জন্য মাঠ ও প্রশিক্ষণসুবিধা নির্মাণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন, একাডেমিভিত্তিক খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণদের ক্রীড়ামুখী করার প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে এই স্পোর্টস সিটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর কার্যক্রম যত বিস্তৃত হবে, ততই নতুন খেলোয়াড় উঠে আসা, ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেও ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ ও পৃষ্ঠপোষকতায় উৎসাহিত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এবিজি স্পোর্টস সিটির গুরুত্ব একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর ক্রীড়া আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের খেলাধুলাকে আরও সংগঠিত, আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে তোলার যে স্বপ্ন, এবিজি স্পোর্টস সিটি সেই পথচলায় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ